যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠন করবে ইরান

এসব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে নিজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন অব্যাহত রাখা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতীকী ছবি
ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতীকী ছবি |মেহের নিউজ

সম্প্রতিক যুদ্ধগুলোকে কেবল সংঘাতের সমাপ্তি হিসেবে না দেখে পাঠ শেখার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান।

এসব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে নিজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন অব্যাহত রাখা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, হুমকি থেকেই ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্ম হলেও সে কারণে তা কখনো থেমে থাকেনি। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, 'প্রতিটি চাপ ও নিষেধাজ্ঞা দেশীয় সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা ও বিশ্বাসকে আরো স্পষ্ট করেছে। আর প্রতিটি যুদ্ধক্ষেত্র দেশের বিশেষজ্ঞদের জন্য তৈরি করেছে নতুন সুযোগ।'

বিবৃতিতে জাতীয় প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরশীলতার পথ নকশা প্রণয়ন করার জন্য ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রশংসা করা হয়। বিশেষ করে তরুণ ইরানি বিজ্ঞানী ও জনগণের ওপর বিশ্বাস রেখে জ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বাবলম্বীকরণ ও বিকাশের ওপর জোর দেয়া হয়। পাশাপাশি এই পথে শহীদ হওয়া মোস্তফা চামরান ও আজিজ নাসিরজাদে সহ প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা এবং ১২ দিনের যুদ্ধ ও রমজান যুদ্ধে শহীদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শত শত কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) জানায়, সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধগুলো দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রকৃত পরীক্ষাক্ষেত্র ছিল হিসেবেই মনে করে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিগত বছরগুলোতে ইরানি দক্ষতার মাধ্যমে যে সব সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হয়েছিল, সেগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রয়োগিক সক্ষমতার সাথে যুক্ত হয়ে শত্রুর অধিকাংশ হিসেব-নিকাশ ও লক্ষ্য নস্যাৎ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, এই সংঘাতগুলো ইরানকে নিজেদের সক্ষমতা সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা, নতুন চাহিদা চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণের সুযোগ করে দিয়েছে। অতীত পেছনে ফেলে এই অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে প্রতিরক্ষা শিল্পকে নতুন করে সাজাতে বদ্ধপরিকর তেহরান।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতীয় প্রতিরক্ষা অংশগ্রহণের মডেলের ওপর ভিত্তি করে 'প্রতিরক্ষা শিল্প বিপ্লবের' ধারণাটি কেবল নতুন পণ্য তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং চিন্তা, নকশা, উৎপাদন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানকে প্রতিরক্ষা শক্তিতে রূপান্তরের গতিকে রূপান্তরিত করেছে। অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, দেশের সামরিক বাহিনীর সাথে জনগণের সম্পর্কের বন্ধন যতটা মজবুত হবে, সংকট মোকাবেলার ক্ষমতাও তত বাড়বে। মোজতবা খামেনির কৌশলগত নেতৃত্বে যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে জ্ঞান, জ্ঞানকে প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে রূপান্তর করাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান মিশন।

এদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার সাথে ইরানের ২০ বছর মেয়াদী অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দুদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮০ কোটি ডলারে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে দুদেশের মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইউরোপীয় একটি সরকারি সনদের বরাতে জানা যায়, রাশিয়া সমুদ্রপথে ইরানকে ড্রোন যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ ও টিএনটি পাঠিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানকে 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটনের এই ব্যর্থ নীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে হুমকিতে ফেলছে এবং তা আলটিমেটলি তাদের পরাস্ত করবে। ব্রিকস জোটকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার চেষ্টা করছে ইরান।

তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শ্বাসরুদ্ধকর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান পথ খুঁজে নেবে। মার্কিন প্রশাসন এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখান থেকে তারা সহজে বের হতে পারছে না।