মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইরান একদিকে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলছে- যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জড়িত কোনো স্থাপনার কাছে যেন সাধারণ মানুষ না যায়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পাল্টা হামলা তাকে ‘সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে।’
আর তেহরান পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, যদি সত্যিই ইরানের শক্তি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে ওয়াশিংটন কেন দুনিয়ার নানা দেশের কাছে সাহায্য চাইছে?
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ১৬তম দিনে এসে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে।
আইআরজিসির এক মুখপাত্রের ভাষায়, ‘আমাদের প্রাণঘাতী ড্রোনগুলো অঞ্চলজুড়ে বিন্দু বিন্দু করে খুঁজে বের করছে মার্কিন সেনাদের লুকানোর জায়গা। গোয়েন্দা তথ্য পেলেই প্রতিটি মার্কিন সন্ত্রাসীকে নিখুঁতভাবে আঘাত করা হবে।’
এই হামলার প্রসঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব জায়গায় ইরানের পাল্টা আঘাত ছিল ‘এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় বিস্ময়’।
তার এই মন্তব্য যুদ্ধের ভেতর নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের আরেক বক্তব্য নিয়ে সরাসরি কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একদিকে বলছে ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চাইছে- এটা নিজেই এক বড় বিরোধাভাস।
ফরেন পলিসি গ্রুপ তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন দেশের উপস্থিতি চেয়েছেন, তখন জাপানে ইরানের দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে এক তীব্র বার্তা দেয়। সেখানে বলা হয়, ‘এগুলো এমন বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক আর ভীতিকর কথা, যা কোনো যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টই বলতে পারেন।’
জাপানে ইরানি দূতাবাস তাদের বিবৃতিতে আরো প্রশ্ন তোলে, যদি সত্যিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পুরো সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের ‘শতভাগ সামরিক সক্ষমতা’ ধ্বংস করে দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের এই ধারাবাহিক ও তীব্র আত্মরক্ষামূলক পাল্টা আঘাত আসছে কোথা থেকে?
তারা আরো জানতে চায়, কেন মার্কিন বাহিনীকে এত দ্রুত আর এত ঘন ঘন পৃথিবীর নানা জায়গায় সরানো হচ্ছে? কেন ওয়াশিংটন ‘অনেক দেশের’ কাছে সাহায্য চাইছে, এমনকি চীনের কাছেও?
ইরানি দূতাবাসের ভাষায়, এ কি সেই যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে পড়া অবস্থা নয়, যেখানে ‘যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট’ নিজেই ডুবে গিয়ে অন্যদের কাছে সাহায্য চাইছেন?
তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ কেবল আক্রমণকারীদের একচেটিয়া সুবিধা হতে পারে না, নিজেদের বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার থেকেও কোনো রাষ্ট্রকে বঞ্চিত করা যায় না।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়ছে। মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আর ওয়াশিংটনের নতুন আহ্বান, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে দ্রুত আরো বড় সংঘাতে গড়াতে পারে, সে আশঙ্কা এখন প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।



