ট্রাম্প আলোচনা বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি চুক্তিতে ভাটা

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ফিরে যান। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। ধারাবাহিক এসব পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা নতুন সপ্তাহের শুরুতেই ম্লান হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই সংঘাত থামাতে যে আলোচনা চলছিল, তা এখন অচলাবস্থায় আটকে আছে; তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শিথিল করার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ফিরে যান। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। ধারাবাহিক এসব পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অচলাবস্থার ফলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র এবং একটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান এমন এক সংঘাতে আবদ্ধ রয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়েছে। জ্বালানির দাম বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুর্বল হয়েছে।

ইরানের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ফোনে জানিয়েছেন, তেহরান কোনো ‘চাপিয়ে দেয়া আলোচনা’তে অংশ নেবে না। তিনি বলেন, আলোচনার ভিত্তি তৈরির আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধসহ বিভিন্ন ‘কার্যকরী বাধা’ তুলে নিতে হবে।

অন্যদিকে আরাগচি তার পাকিস্তান সফরকে “খুবই ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন। তবে ইসলামাবাদে থাকা একটি ইরানি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের “চরমপন্থী দাবি” মেনে নেবে না।

এদিকে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাব ‘অপর্যাপ্ত’ হওয়ায় তিনি দূতদের সফর বাতিল করেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাললে তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বে “তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি” রয়েছে। তিনি লেখেন, “কে নেতৃত্ব দিচ্ছে তা তারাও জানে না… আমাদের হাতে সব ক্ষমতা, তাদের কিছুই নেই। তারা কথা বলতে চাইলে শুধু ফোন করলেই হবে।”

এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরানে কোনো বিভক্তি নেই এবং দেশটি সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে তিন সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণাীল আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা অব্যাহত রেখেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট আগে জানিয়েছিলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চলতি মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা তার নেতৃত্বেই হলেও তা ব্যর্থ হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর থেকে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, মার্কিন ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স