মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অষ্টম ধাপে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে দ্বিতীয়বারের মতো জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় এফ-১৮ যুদ্ধবিমান রাখা এলাকা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের বড় হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের ঘাঁটিতেও সফল হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, নৌ-সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, গুদাম এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এসব স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ড্রোন প্রতিহত করার সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়।
আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর অন্যতম প্রধান রসদ ও সহায়তা কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাসর-২’ অভিযানের চতুর্থ ধাপে ওই স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এতে ঘাঁটিতে আগুন ধরে যায় এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি করেছে ইরান।
তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, বাহরাইন বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা।



