ফিলিস্তিনের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ব্রিটিশ পুলিশের সীমাবদ্ধতা আরোপ

লন্ডন পুলিশ শনিবারের ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিকল্পিত সময় বাতিল করেছে এবং নতুন করে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফিলিস্তিনের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ব্রিটিশ পুলিশের সীমাবদ্ধতা আরোপ
ফিলিস্তিনের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ব্রিটিশ পুলিশের সীমাবদ্ধতা আরোপ |পার্সটুডে

লন্ডন পুলিশ শনিবারের ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিকল্পিত সময় বাতিল করেছে এবং নতুন করে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের জন্য পরিকল্পিত সময়ের ৭২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে লন্ডন পুলিশের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে ‘যুদ্ধ বন্ধ করুন’সহ শান্তিকামী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ করেছে, যারা সরকারের এ নিষেধাজ্ঞাকে হয়রানি এবং বৈধ বিক্ষোভকে বাধাগ্রস্ত করার নীতির অংশ বলে অভিহিত করেছে।

লন্ডনে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ, যা প্রতি দুই সপ্তাহে লন্ডনে বিভিন্ন সমাজের মানুষ এবং ধর্মের যেমন (ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম) কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমা বিশ্বের বৃহত্তম ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের অংশগ্রহণকারীরা ‘গাজায় গণহত্যার’ নিন্দা জানাতে এবং ইসরাইলি শাসনের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের সমর্থনের সমালোচনা করতে লন্ডনের রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।

‘স্টপ দ্য ওয়ার ক্যাম্পেইনের’ পরিচালক লিন্ডসে জার্মান জোর দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার কারণ হলো দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখা, গণহত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারে ব্যর্থতা এবং পশ্চিমাদের অপরাধ ধামাচাপা দেয়া।’ লিন্ডসে জার্মান এই আন্দোলনে শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন এবং সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের কথাও জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা গত দুই বছরে প্রায় ৩ হাজার বিক্ষোভকারীর গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার এই মূল্যপ্রদানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করেছেন। যদিও বালফোর ঘোষণা অনুযায়ী ইসরাইল গঠনে ব্রিটেনের ভূমিকার ইতিহাস এবং সে কারণে দেশটির বর্তমান নীতির প্রতি সমালোচনা তীব্র হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে বিক্ষোভের রাস্তা পরিবর্তন করতে বাধ্য করার ফলে কেবল বিক্ষোভের তীব্রতা কমে যায়নি। বরং ‘ফিলিস্তিনের সমর্থনে বৃহত্তম সমাবেশ’ করার জন্য বিক্ষোভকারীদের দৃঢ় সংকল্পকেও বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র : পার্সটুডে