যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইসরাইল, গ্রেফতার ২১

শান্তির অংশীদারিত্ব বা 'পিস পার্টনারশিপ' জোটের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে পুলিশ অন্তত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সৈয়দ মূসা রেজা
তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে প্ল্যাকার্ড  হাতে সরকারবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ
তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ |সংগৃহীত

ইরানের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর কতদিন? এই প্রশ্ন তুলে এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এই ‘অনন্ত যুদ্ধের’ বিভীষিকা বন্ধের দাবিতে শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ইসরাইলের রাজপথ।

জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেল আবিব, হাইফা এবং জেরুজালেমের মতো প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের জোরালো অবস্থান জানান দিয়েছেন। তবে শান্তির এই মিছিলে পুলিশি বাধা ও বলপ্রয়োগ করেছে।

শান্তির অংশীদারিত্ব বা 'পিস পার্টনারশিপ' জোটের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে পুলিশ অন্তত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এবারের বিক্ষোভের বিশেষত্ব হলো, প্রথমবারের মতো সরকারবিরোধী মূলধারার সংগঠনগুলো বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যুদ্ধবিরোধী সুরে শ্লোগান তুলছে এবং বিক্ষোভে নেমেছে। তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ার, হাইফার হোরেভ সেন্টার এবং জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ারে সমবেত বিক্ষোভকারীরা ‘আমাদের সবার জীবনের স্বার্থে’ স্লোগান তুলে রাজপথে নামেন। সাবেক বামপন্থী পার্লামেন্ট সদস্য এবং অ্যাক্টিভিস্টদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে কেবল যুদ্ধ নয়, সরকারের বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা যায় তেল আবিবে, যেখানে গ্রেফতারের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে উত্তরের শহর হাইফাতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশের সাথে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। সেখানে হাদাশ পার্টির নেতা আয়মান ওদেহকে পুলিশ হেনস্তা করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর দিয়েছে। পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো বিশৃঙ্খলা তারা বরদাশত করবে না।

জবাবে আয়োজক সংগঠন ‘পিস পার্টনারশিপ’ পুলিশের এই দমনপীড়নকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ রাজনৈতিক কণ্ঠরোধ করতে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনাবলীকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা ক্ষোভের সাথে জানায়, যখন পশ্চিম তীরে জাতীয়তাবাদী সহিংসতা বা অপরাধ দমনে পুলিশ চোখ বন্ধ করে থাকে, তখন শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা স্পষ্টতই পক্ষপাতমূলক আচরণ। আন্দোলনের অন্যতম আয়োজক ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ মুভমেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নেতানিয়াহুর এই ‘অনন্ত যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে তাদের লড়াই থামবে না, বরং এই প্রতিবাদ আরো জোরালো হবে।

সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট, টাইমস অব ইসরাইল।