ইরানে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭৮

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাধা দিতে ইসরাইল ইরানে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নাম দিয়ে যে হামলা চালিয়েছে, তাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভবন
ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভবন |রয়টার্স

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের বিমান হামলায় ৭০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।

শুক্রবার ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ খবর দিয়েছে কাতারের বার্তা সংস্থা আলজাজিরা

খবরে বলা হয়, এ আক্রমণে আহত হয়েছে আরো অন্তত ৩২০ জন ইরানি।

উল্লেখ্য, ফার্স বার্তা সংস্থাটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দ্বারা পরিচালিত এবং রাষ্ট্রীয় আধা-সরকারি গণমাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।

অপরদিকে, বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ৭৮ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া, হামলার ঘটনায় আরো ৩২৯ জন আহত হওয়ার তথ্যও জানানো হয়েছে।

ইসরাইলি হামলায় ইরানের যেসব শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাধা দিতে ইসরাইল ইরানে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নাম দিয়ে যে হামলা চালিয়েছে, তাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।

যাদের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে, তারা হলেন—

মোহাম্মদ বাঘেরি : ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

হোসেইন সালামি : ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার

ঘোলামালি রশীদ : খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার

ফেরেয়দুন আব্বাসি : পরমাণু বিজ্ঞানী ও ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এইওআই-এর সাবেক প্রধান

মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি : পরমাণু বিজ্ঞানী, যিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সাথে যুক্ত ছিলেন

এছাড়া, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানিও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানাচ্ছে দেশটির গণমাধ্যম।

ইসরাইলি হামলায় অন্তত ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত

গত রাতে একাধিক ইসরাইলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান।

তাদের মাঝে সবচেয়ে পরিচিত নাম ফেরেয়দুন আব্বাসি, যিনি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এইওআই’র সাবেক প্রধান ছিলেন।

এছাড়া, নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি। তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তেহরানের ইসলামিক আজাদ ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই তালিকায় আরো আছেন আব্দোলহামিদ মিনৌচেহর, আহমাদ রেজা জোলফাঘারি ও আমিরহোসেইন ফেকহি। এদের প্রত্যেকেই তেহরানের শহীদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন।

ষষ্ঠজনের পুরো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শুধু তার পদবী ‘মোতাল্লেবিজাদেহ’ উল্লেখ করা হয়েছে।