গাজায় চলমান মানবিক সঙ্কটকে ‘ক্রমবর্ধমান অসহনীয়’ বলে উল্লেখ করে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে দৃঢ় অঙ্গীকার না জানালে আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) নিজের মন্ত্রিপরিষদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার। বৈঠক শেষে এমন ঘোষণা দেন তিনি।
নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যেই একটি শান্তি রোডম্যাপ অনুমোদন করেছে। গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি ও ফ্রান্সের মতো দেশের ফিলিস্তিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাপের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
সোমবার স্কটল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনার পর কিয়ার স্টারমার গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে তার মন্ত্রিসভাকে ডেকে এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি নিজে এ বিষয়ে অবস্থান না নিলেও যুক্তরাজ্য যদি নেয়, তাতে তার ‘আপত্তি নেই’।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্ত্রীদের জানিয়েছেন, গাজায় ক্রমবর্ধমান ‘অসহনীয় পরিস্থিতি’ এবং যুক্তরাজ্যের কাঙ্ক্ষিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসার কারণে এই মুহূর্তেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের আগেই যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে- যদি না ইসরাইল গাজায় সহিংসতা বন্ধে অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়, একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়, পশ্চিম তীরে দখলদারির পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতি দেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আরো জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। হামাসকে অবশ্যই সকল পণবন্দীকে মুক্তি দিতে হবে, অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে এবং গাজা শাসনে কোনো ভূমিকায় না থাকার বিষয়টি মেনে নিতে হবে।
যুক্তরাজ্যের এই রোডম্যাপ এসেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্জের সাথে সপ্তাহান্তে ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পনায় একমত হওয়ার পর।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি



