ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে জাতিসঙ্ঘের সরবরাহ করা ত্রাণ হামাস লুট করেছে এমন কোনো প্রমাণ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে নেই বলে স্বীকার করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
রোববার (২৭ জুলাই) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু অ্যাজেন্সি।
দুইজন ইসরাইলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সাথে পরিচিত আরো দুটি ইসরাইলি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে হারেৎজ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘের সাহায্য বিতরণ ব্যবস্থা ‘অত্যন্ত কার্যকর’।
তাদের এই বক্তব্য ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তাদের পূর্ববর্তী দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেছে। ইসরাইলি সরকার বলেছিল, হামাস ত্রাণ সরবরাহ দখল করে তা তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য ব্যবহার করছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গাজায় ত্রাণ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল ইসরাইল।
এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত ত্রাণ ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ত্রাণ সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। ইসরাইলের এসব কর্মকাণ্ডকে গাজার সাধারণ মানুষের ওপর সম্মিলিত শাস্তি মনে করছে অনেকই।
শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও হামাসের ত্রাণ লুটের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এই অভিযোগগুলো ব্যবহার করে বিতর্কিত বেসরকারি ত্রাণ সংস্থা গাজা রিলিফ ফাউন্ডেশনকে সমর্থন জানিয়েছিল। জাতিসঙ্ঘ সংস্থাটির স্বীকৃত দেয়নি।
গত ২৭ মে থেকে ইসরাইল জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা রিলিফ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করেছে। তবে তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
গাজার ক্ষুধা সংকট এক মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রচণ্ড অপুষ্টিতে কঙ্কালসার মানুষজন ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও দীর্ঘদিনের অনাহারে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছেন।
শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে দুই শিশুসহ আরো পাঁচজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অনাহারে প্রানহানির সংখ্যা বেড়ে ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ৮৫টি শিশু।



