ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার মধ্যাঞ্চলে একটি ক্লিনিকের সামনে পুষ্টিকর খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আটটি শিশু ও দুইজন নারী রয়েছেন বলে একটি হাসপাতাল জানিয়েছে।
দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন শিশু এবং অন্যান্যদের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে এবং চিকিৎসকরা বেশ কয়েকজন আহতের ক্ষতস্থানের চিকিৎসা করছেন।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে ক্লিনিকটি পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাহায্য সংস্থা প্রজেক্ট হোপ।
প্রজেক্ট হোপ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে দেইর আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত তাদের আলতায়ারা স্বাস্থ্য ক্লিনিকের সামনে এই হামলা চালানো হয়। অনেকেই অপুষ্টি, নানা ধরনের সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং আরো অনেক সমস্যার চিকিৎসার জন্য বাইরে জড়ো হচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ আল-আইদি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘হঠাৎ আমরা একটি ড্রোনের শব্দ শুনতে পেলাম এবং তারপর বিস্ফোরণ ঘটল। আমাদের পায়ের নিচের মাটি কেঁপে উঠল এবং চারপাশের সবকিছু রক্তাক্ত আর আর্ত-চিৎকারে পরিণত হলো।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি গ্রাফিক ফুটেজ যাচাই করেছে বিবিসি। ওই ফুটেজে হামলার পরের ঘটনায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ও ছোট শিশুরা রাস্তায় পড়ে আছে, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে এবং অন্যরা নড়াচড়া করছে না।
ইন্তিসার নামে একজন নারী বিবিসিকে জানান, নিহতদের মধ্যে তার গর্ভবতী ভাগ্নী মানাল ও তার মেয়ে ফাতিমাও ছিল। মানালের ছেলে ছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় তিনি বাচ্চাদের জন্য সাপ্লিমেন্ট নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’
প্রজেক্ট হোপের সভাপতি ও সিইও রাবিহ তোরবে বলেন, সাহায্য গোষ্ঠীর ক্লিনিকগুলো গাজার বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়স্থল। এসব ক্লিনিকে মানুষ তাদের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আসে, নারীরা গর্ভাবস্থায় ও পরে প্রসবোত্তর যত্ন নেয়, অপুষ্টির জন্য চিকিৎসাসহ নানা স্বাস্থ্য সহায়হা পায় মানুষ।
তিনি বলেন, ‘এরপরও আজ সকালে সহায়তা কেন্দ্রের দরজা খোলার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে আক্রমণ করা হয়। এটি ভয়ঙ্কর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। পরিবারগুলোর জন্য কেমন লাগছে তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এমন ঘটনা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও গাজায় কেউ এবং কোনো এলাকাই নিরাপদ নয়। এটি চলতে পারে না।’
এদিকে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ দাবি করেছে, তারা হামাসের সামরিক শাখার অভিজাত নুখবা বাহিনীর একজন সদস্যকে আঘাত করেছে। তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলায় অংশ নিয়েছিল।
ওই এলাকার বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তির খবর জানে ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী। তারা বলেছে, ‘ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং জড়িত না থাকা ব্যক্তিদের যেকোনো ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে আইডিএফ।’



