ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক আলোচনার আশাবাদ ইসহাক দারের

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানানোর সময় ইসহাক দার বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সহায়তা করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার |সংগৃহীত

শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে আসা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তার এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানানোর সময় ইসহাক দার বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সহায়তা করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

এর আগে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার আলোচনার প্রথম দফা শুরু হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ—উভয় পদ্ধতিতেই হতে পারে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কার্যসূচি নির্ধারণের পর সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচনা শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রধান শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হবে তাদের কাছে ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা’। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে।

তবে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা।

অন্যদিকে, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে রয়েছে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।

এ আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি দেশবাসীকে আলোচনার সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং দেশটির বহু সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়—ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, দি ডন।