যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামো গঠনে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি। তবে একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় লারিজানি বলেন, “মিডিয়ায় সৃষ্ট কৃত্রিম যুদ্ধ পরিস্থিতির বিপরীতে আলোচনার একটি কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।” তবে তিনি আলোচনার ধরন বা সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান সামরিক সংঘাতে না গিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান আমাদের সাথে কথা বলছে। দেখা যাক কিছু করা যায় কি না, নইলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই অঞ্চলের দিকে আমাদের একটি বড় নৌবহর এগোচ্ছে।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী হলেও শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হামলার হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানালে প্রয়োজনে ‘সহিংসতা’ ব্যবহারে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ঘোষিত দুই দিনের নৌ মহড়াকে ঘিরে সতর্কবার্তা দেয়। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র ও বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে ‘অসুরক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ’ সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে নিজস্ব ভূখণ্ডে কীভাবে মহড়া চালাতে হবে, তা নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেই আইআরজিসির কাছ থেকেই ‘পেশাদার আচরণ’ প্রত্যাশা করা হচ্ছে—যা দ্বিচারিতার পরিচয়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে।
এদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে আলি লারিজানির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কাতার জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পক্ষে এবং সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



