মিসরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক টিম হাফেজ্জীর

‘তারা ভবিষ্যতেও গাজা ও মিসরের নিপীড়িত শরণার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা, খাদ্য, চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মিসরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাথে টিম হাফেজ্জী
মিসরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাথে টিম হাফেজ্জী |সংগৃহীত

মিসরে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত দিয়াব আল-লোহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্যরা। দেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও বেফাকুল মাদারিসিল কওমির মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গাজা ভূখণ্ডে হাফেজ্জীর চলমান মানবিক কার্যক্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে মিসরে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক পরিবার গত সাত-আট মাস ধরে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। পরিবারগুলো এখন ন্যূনতম জীবনধারণেও চরম সংকটে রয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে টিম হাফেজ্জী জানায়, সাম্প্রতিক সফরে তারা প্রায় ৫০০ অবহেলিত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে, যাতে এসব পরিবার অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়।

এ সময় আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় আলোচনায় উঠে আসে—মিসরে আশ্রিত হাজারো শরণার্থীর মধ্যে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি শিশু শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কথা ভেবেই কায়রোতে এক মিসরীয় শিক্ষাবিদের সহযোগিতায় টিম হাফেজ্জী প্রতিষ্ঠা করেছে ‘আল মাজদ একাডেমি’, যেখানে এর মধ্যেই পাঁচশ’র বেশি শিশু পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে শিশুদের শিক্ষার প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং শিক্ষা সহায়তার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়।

রাষ্ট্রদূত সংস্থাটির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের কার্যক্রমে আমরা খুশি। আপনারা গাজার ছয়টি হাসপাতালে চিকিৎসার দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি খুবই ভালো বিষয়। আপনার জন্য গর্ব হচ্ছে আমার।

সংস্থাটির পক্ষে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, টিম হাফেজ্জী গাজায় দেড় বছর ধরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ছয়টি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও নানামুখী সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছে সংস্থাটি।

বৈঠক শেষে টিম হাফেজ্জী ঘোষণা করে, তারা ভবিষ্যতেও গাজা ও মিসরের নিপীড়িত শরণার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা, খাদ্য, চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।