ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ

ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার বেশির ভাগই ব্যবহার করা হয়নি : ইরান

ইরানের হাতে থাকা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো ছোঁয়াই হয়নি। যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য ইরান কেবল সীমিত শক্তির প্রয়োগ করেছে বলে দাবি তেহরানের।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরাইলের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র |আনাদোলু অ্যাজেন্সি

ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ইহুদিবাদী ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ দিনের যুদ্ধে তেহরান নিজের মূল ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির বড় অংশটি ব্যবহারই করেনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল রেজা তালাই-নিকের এই দাবি এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাসনিন নিউজের বরাত দিয়ে মিডলইস্ট মনিটর জানাচ্ছে, জেনারেল রেজা তালাই-নিক বেশ জোর দিয়েই বলেছেন যে ইরানের হাতে থাকা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো ছোঁয়াই হয়নি। যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য ইরান কেবল সীমিত শক্তির প্রয়োগ করেছে বলে দাবি তেহরানের।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান মূলত ওয়াশিংটন আর তেল আবিবকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, তেহরান এখনো নিজের আসল শক্তির তুরুপের তাসগুলো পকেটে রেখে দিয়েছে। এই তুরুপের তাস যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি যেকোনো মুহূর্তে ওলটপালট করে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করে তেহরান।

জেনারেল তালাই-নিকের এই বিশ্লেষণী বক্তব্যে আরো উঠে এসেছে আকাশসীমার দখলের বিষয়টি। তার দাবি অনুযায়ী, অধিকৃত ইসরাইলি ভূখণ্ডের ওপর আকাশসীমায় ইরানি বাহিনী পুরো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং সেখানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল মোট সক্ষমতার সামান্য অংশ মাত্র। এর পাশাপাশি ওমান সাগরে নৌ-যুদ্ধের যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন তা বেশ চাঞ্চল্যকর।

তিনি দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনীর অনড় অবস্থানের মুখে শত্রু শিবিরের রণতরিগুলো বারবার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে এবং একেক পর্যায়ে তারা কয়েক শ’ কিলোমিটার দূরে সরে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। রণক্ষেত্রের এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে ইরান নিজেদের পাল্লা ভারী দেখানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করছে না।

পুরো বিষয়টি কেবল সামরিক শক্তির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সাথে জড়িয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সাথে এই সংঘাতের সূচনা করার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তাতে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মিডলইস্ট মনিটরের রিপোর্ট বলছে, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের এমন হুংকার মূলত তেহরানের সামরিক সক্ষমতার এক বিরাট বিজ্ঞাপন। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, ৪০ দিন পার হলেও তাদের ভাণ্ডারে অস্ত্রের কোনো কমতি নেই, বরং শত্রুপক্ষকে জবাব দেয়ার জন্য তারা আরো বড় প্রস্তুতির সক্ষমতা রাখে। এই টানটান উত্তেজনার মাঝে তেহরানের এমন রহস্যময় ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণকে আরো জটিল করে তুলেছে।