বাস্তুচ্যুতি সত্ত্বেও গাজার পরিবারগুলো দুঃখ-কষ্ট, অভাব ও ভঙ্গুর শান্তির মধ্যেই রমজান মাসকে স্বাগত জানালো গাজাবাসী। শত কষ্টের মাঝেও এ রমজানে তারা আনন্দ খোঁজার চেষ্টা করছে।
মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে মাইসুন আল-বারবারাউই তার তাবুতে রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পবিত্র এ মাসের আগমন উপলক্ষে শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দারা কাপড়ের দেয়ালে রঙিন অঙ্কনের পাশাপাশি জীর্ণ সিলিং এ সাধারণ সাজসজ্জা ঝুলিয়েছে।
রমজানের লণ্ঠন কিনতে পেরে আনন্দে হেসে মাইসুন তার নয় বছর বয়সী সন্তান হাসানকে বলে, ‘আমরা তোমার জন্য সাজসজ্জা ও একটি ছোট লণ্ঠন এনেছি।’
রমজান আসার বিষয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে মাইসুন আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুরা যেন খুশি থাকে।’
তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম এ সাজসজ্জাগুলি যুদ্ধের সময় গত দুই বছর ধরে আমাদের সাথে থাকা দুঃখ ও বিষণ্ণতার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার একটি উপায় হোক।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার বড় ছেলের বয়স ১৫ ও ছোট ছেলের বয়স ৯, তারা আমার সবচেয়ে দামি সম্পদ।’
যুদ্ধ জুড়ে তাদের হারানোর চিন্তার কথা জানিয়ে ভয় মিশ্রিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই তারা নিরাপদে থাকে, এটা কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের দিন।’
গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের মতো, এ রমজানে যা আলাদা তা হল আগের দুই বছরের তুলনায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময় তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকা। যখন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের নামে গণহত্যা চলছিল, ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল, তখন মারাত্মক দুরবস্থা ছিল।
মাইসুনের ব্যাখ্যা হলো, ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে শান্ত নয়। প্রত্যেকে জানে প্রকৃত অর্থে যুদ্ধ বন্ধ হয়নি; মাঝে মধ্যেই গোলা বর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গত দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের বিবেচনায় বর্তমান পরিস্থিতি কম আতঙ্কের।’



