সিরীয় সেনা ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ১৫ দিন বাড়লো

বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য হলো কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন সাবেক কারাগারগুলো থেকে আইএসআইএল (আইএস) বন্দিদের স্থানান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানে সহায়তা করা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকাতে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর সাথে কুর্দি যোদ্ধারা
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকাতে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর সাথে কুর্দি যোদ্ধারা |এপি

সিরীয় সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরো ১৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য হলো কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন সাবেক কারাগারগুলো থেকে আইএসআইএল (আইএস) বন্দিদের স্থানান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানে সহায়তা করা।

এসডিএফও যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই উদ্যোগ “উত্তেজনা প্রশমনে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় এবং স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।”

দামেস্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি আয়মান ওঘান্না জানান, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেশজুড়ে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসডিএফ ও সরকারের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ—এসডিএফ যোদ্ধা ও বেসামরিক কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার প্রশ্ন—এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

গত বছরের মার্চে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে দামেস্ক চার দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যার ফলে সরকারি বাহিনী এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি এলাকা দ্রুত দখলে নেয়। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় সিরীয় বাহিনী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত শেষ কয়েকটি শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ওই সময় এসডিএফকে শনিবার রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময়সীমা দেয়া হয়।

সরকারি অগ্রযাত্রার ফলে গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র, জলবিদ্যুৎ বাঁধ এবং আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট বন্দি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আটক রাখা কয়েকটি স্থাপনা—এর মধ্যে রাক্কা প্রদেশের আল-আক্তান কারাগার—সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, সিরিয়া থেকে আইএস-সংশ্লিষ্ট বন্দিদের ইরাকে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, প্রায় ৭ হাজার বন্দিকে ইরাক-নিয়ন্ত্রিত স্থাপনায় পাঠানো হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “আমরা আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছি, যার মধ্যে ইরাকি সরকারও রয়েছে। আইএসের স্থায়ী পরাজয় নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।