যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ১২ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা |সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এক বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর লেক লুসার্নে টানা ১৮ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে এই চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে ইরান এখন আর কম দামে নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারদরেই তেল বিক্রি করতে পারবে। ফলে নিজেদের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ইরান এখন অনেক বেশি অর্থ আয় করার সুযোগ পাবে।

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ বা রূপরেখা তৈরিতেও একমত হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। গত ১৭ জুন স্বাক্ষর হওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারককে ভিত্তি করে দুই দেশের উত্তেজনা কমানো ও পরবর্তী আলোচনার পথ তৈরি করতেই এই অগ্রগতি।

এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কয়েক দশকের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার জন্য ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন ইরানের সাবেক পরমাণু আলোচক ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হোসেন মুসাভিয়ান।

যৌথ বিবৃতিতে আরো জানানো হয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা এগিয়ে নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমও তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারিগরি কমিটি ইরানের এই অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি দেখভাল করবে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শঙ্কা ছিল এই অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য পক্ষের কাছে চলে যেতে পারে।

তবে ইরানের জন্য এটিকে একটি বড় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যদি এই চুক্তির শর্তগুলো ঠিকঠাক পূরণ করতে পারে, তবে পরবর্তীতে তাদের আরো আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেয়া হবে এবং বিশ্ববাজার ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইরানের প্রবেশাধিকার আরো বাড়ানো হবে।

এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাকিস্তান সফরের প্রাক্কালে ইসলামাবাদে তার সাথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ছবি বিলবোর্ডে প্রদর্শন করা হয়েছে, যা এই শান্তি আলোচনার আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা