ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিলে সৌদির সাথে পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে : ট্রাম্প

গাজা সংঘাতের পর থেকে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, সৌদি আরবের সাথে হওয়া বেসামরিক পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক দিন পরই তার এ ঘোষণায় পুরো বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের সাথে তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে অনাগ্রহী। বিশেষ করে গাজা সংঘাতের পর থেকে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বুধবার ঘোষিত বেসামরিক পরমাণু চুক্তিকে সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে এমন সময়ে এ চুক্তি হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মূলত তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘সৌদি আরবের সাথে হওয়া চুক্তিটি অনুমোদন পাবে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিচ্ছে কি না তার ওপর।’

হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, সৌদি আরব আগে থেকেই জানত, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া এ চুক্তির পূর্বশর্ত। যদিও চুক্তি ঘোষণার সময় এ বিষয়টির কোনো উল্লেখ ছিল না।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত সবসময় প্রেসিডেন্টের।’

তিনি বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এমন একটি বিষয়, যেটিকে ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি অতীতেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান বজায় রাখবেন।

লেভিট জানান, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন সৌদি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তি এবং ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর আবাসভূমি সৌদি আরব যদি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।

লেভিট বলেন, সৌদি চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কোনো কথা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তোলার মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার পর চুক্তিটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্র : এএফপি/বাসস