আল-আকসায় ১ লাখেরও বেশি মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে শুক্রবার এক লাখেরও বেশি মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বৃহস্পতিবার মসজিদটি পুনরায় খুলে দেয়া হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আল-আকসায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়
আল-আকসায় মুসল্লিদের নামাজ আদায় |সংগৃহীত

পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক লাখেরও বেশি মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। এই পবিত্র স্থানটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইসলামিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বৃহস্পতিবার মসজিদটি পুনরায় খুলে দেয়া হয়।

জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে ইসলামসহ তিন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থানগুলো অবস্থিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এগুলো বন্ধ ছিল।

মুসলমানদের আল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের ওয়েস্টার্ন ওয়াল এবং খ্রিষ্টানদের চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার; সবকটিই পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত। সবকটি স্থানই দখল করে নিজেদের ভূখণ্ডে সংযুক্ত করেছে ইসরাইল।

ওয়াশিংটন ও তেহরান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পর, বৃহস্পতিবার ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলো ফের অনুসারীদের জন্য খুলে দেয়া হয়।

এ বছর পবিত্র রমজান মাসেও মুসলিম মুসল্লিরা আল-আকসায় প্রবেশ করতে পারেননি। শুক্রবার আল-আকসায় জুমার নামাজ আদায় করেন এক লাখেরও বেশি মুসলিম। স্থানটি পরিচালনাকারী জর্দানীয় সংস্থা ইসলামিক ওয়াক্ফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তাসংস্থা এএফপিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, মসজিদ চত্বর মুসল্লিদের আগমনে পরিপূর্ণ।

৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাইদেহ বলেন, ‘আশা করি আল-আকসা আর বন্ধ হবে না। জেরুজালেমের বা পশ্চিম তীরের বাসিন্দা, যেই হোক; সবাই এই পবিত্র স্থানে আসতে পারবেন।’

ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এখনো বয়স ও অনুমতির কোটার ভিত্তিতে তেল আবিবের কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন।

৩৯ বছর বয়সী শরিফ মোহাম্মদ বলেন, ‘জুমার নামাজ আমাদের জন্য ফরজ, কিন্তু আল-আকসায় আদায় করা সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি।’ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে আল-আকসার মর্যাদার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দীর্ঘদির পর আল-আকসা মসাজিদে নামাজ পড়তে পেরে ৫৫ বছর বয়সী আহমাদ আম্মার জানান, ‘এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না’।

জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেয়ার পাশাপাশি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে জারি করা জরুরি অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ বিধিনিষেধও তুলে নিয়েছে।

তবে লেবানন সীমান্তবর্তী দেশটির উত্তরাঞ্চল এর আওতায় নেই। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বাসস