চলমান ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের কারণে লেবাননের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ায় চলতি বছর দেশটির অর্থনীতি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
লেবানন ২০১৯ সাল থেকে ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মার্চ মাসে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে দেশটিকে আবারো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে।
এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৬ সালে লেবাননের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে পর্যটন খাতে ধস, মানুষের ভোগব্যয় কমে যাওয়া, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, চলতি বছর দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সরবরাহব্যবস্থায় বাধা, পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যাবে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, সর্বশেষ সংঘাত শুরুর আগে লেবাননের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে ধারণা করা হয়েছিল, যা ২০১৯ সালের আর্থিক সঙ্কট শুরুর পর সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক দাহলিয়া খলিফা বলেন, আস্থা ফিরিয়ে আনা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া জরুরি। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
লেবাননকে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে দেশটির আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
গত সপ্তাহে লেবাননের পার্লামেন্ট ব্যাংক পুনর্গঠনসংক্রান্ত একটি আইনে সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য হলো সঙ্কটে থাকা ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং দেশের দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং সঙ্কট মোকাবেলা করা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আইনটির প্রশংসা করে বলেছে, এটি লেবাননের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
লেবানন বর্তমানে আইএমএফের সাথে অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করছে। আইএমএফ জানিয়েছে, আগামী মাসে বৈরুতে আবারো এ বিষয়ে বৈঠক শুরু হবে।
সূত্র: বাসস



