গাজায় টানা দুই বছর ধরে চালানো আগ্রাসনে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—এমন হিসাব ইসরাইলি সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেয়া নিহতের সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছিল ইসরাইল।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট ও অন্যান্য শীর্ষ গণমাধ্যম জানায়, বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।
ইয়েনেটের প্রতিবেদনে এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। এতে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, নিহতদের মধ্যে কারা যোদ্ধা এবং কারা বেসামরিক—তা আলাদা করে চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে।
জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যাকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করে থাকে। তারা বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। পাশাপাশি বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলেও দাবি করেছে তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য তাদের ‘সরকারি উপাত্তের প্রতিফলন নয়’।
এক বিবৃতিতে বলা হয়,“এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। ইসরাইলের সরকারি হিসাবে, গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪৭০ জনের বেশি ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।
সূত্র : রয়টার্স।



