সানা পুনর্দখলের লড়াই শুরু, হাউছিদের হটানোর লক্ষ্য ইয়েমেনি বাহিনীর

রাজধানী সানার প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত আল-জাওফে বিশেষ করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী হাউছিদের অবস্থানে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী |সংগৃহীত

ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী । সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হাউছিদের কাছ থেকে রাজধানী সানা পুনর্দখল করাই তাদের লক্ষ্য।

আল জাজিরা (৮ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, সোমবার তাইজ, আল-বাইদা ও আল-জাওফ প্রদেশে লড়াই তীব্র হয়ে ওঠে। রাজধানী সানার প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত আল-জাওফে বিশেষ করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী হাউছিদের অবস্থানে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে স্থলভাগেও ‘তীব্র লড়াই’ চলছে বলে জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তারা আল-জাওফে সরকারি বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেছে। আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা। এ হামলার জন্য রিয়াদকে দায়ী করে হুতিদের হুঁশিয়ারি, এই ‘আগ্রাসন শাস্তি ছাড়া পার পাবে না’।

তবে সৌদি আরবের অভিযোগ, সাম্প্রতিক হাউছি হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। রিয়াদও এই ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধির’ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সরকার ‘সানা পুনর্দখলের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারপন্থী বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলি বলেন, হাউছিদের ‘কব্জা থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সব ইয়েমেনির রাজধানী হিসেবে সানাকে ফিরিয়ে আনা’ এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

Houthis-fighters

হাউছি যোদ্ধারা

তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সানামুখী কয়েকটি প্রধান সড়ক এড়িয়ে চলারও সতর্কতা দিয়েছেন। এর মধ্যে মারিব ও আল-জাওফ থেকে রাজধানীতে যাওয়ার নিহম, সিরওয়াহ, মাহলিয়াহ ও আল-হাজম হয়ে যাওয়া সড়কগুলো রয়েছে।

২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে এটিই সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনা। ২০১৪ সালে হাউছিরা সানা দখল করার পর ইয়েমেনের যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে।

জুলাইয়ে সরকারি বাহিনী সানার হাউছি-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে অবতরণে বাধা দেয়। গত সপ্তাহে হাউছিরা পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদাহ দিয়ে লোহিত সাগরের আল-মাখা বন্দর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে।

হাউছিরা বাব আল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি তেল রপ্তানির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

নিহত-আহত শত শত, বাস্তুচ্যুত ২১ হাজার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, ২৩ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই তাইজ ও পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা। শুধু গত বৃহস্পতিবার থেকে তাইজ থেকেই আনুমানিক ২১ হাজার মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি সোমবার আল-জাওফ, আল-বাইদা, তাইজ ও হোদেইদাহে হুতিদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেন।

তবে দুই পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও হাউছিদের কিংবা ইয়েমেনি সরকারের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা।