যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। শুক্রবার তেলের ফিউচার মূল্য কমে এপ্রিলের শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের পথে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিলের সম্ভাবনাই তেলের দামে এই পতনের প্রধান কারণ। যদিও সম্ভাব্য চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ দশমিক ০৪ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১ দশমিক ২৬ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়।
এ সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ৬ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, যা ১৩ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এ চুক্তিতে অনুমোদন দেননি। পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “বাজারে এখনও ধারণা রয়েছে যে সংঘাত শেষের পথে এবং একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই ধারণা বহাল থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরো কমে ৮০ ডলারের নিচে যেতে পারে।”
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে তিন মাসব্যাপী মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর ইঙ্গিতের কারণে তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম ওঠানামা করেছে প্রায় ৬ ডলার পর্যন্ত।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো উত্তেজনা বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ডাচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজি বলেছে, প্রণালী পুরোপুরি খুলে গেলে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরতে পারে, তবে সরবরাহ পরিস্থিতির পূর্ণ পুনরুদ্ধার এখনও অনিশ্চিত।
আইএনজি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের পর তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, কারণ উৎপাদকরা মজুত ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়। ফলে উৎপাদন পুনরুদ্ধার ধীরে ধীরে হবে।
এ ছাড়া, অঞ্চলটির বিভিন্ন শোধনাগারকেও উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে সংঘাতের শুরুতে এসব অবকাঠামোর কিছু অংশ হামলার শিকার হওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স



