পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া নিরাপত্তা চুক্তি বা মক্কা চুক্তি নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমার স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে এই ঘটনা।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, সোমবার (১০ আগস্ট) জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই সোমবার এ মন্তব্য করেছেন।
ইসমাইল বাকেই বলেন, এই তিন দেশের 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' মূলত অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ভাবনায় এক বড় পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন মার্কিন শক্তির ওপর ভরসা রাখা থেকে দূরে সরে আসছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে উদ্ধৃত করে তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এখন মূল অশান্তির কারণ। তাই এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে এবং 'ইসরাইল' ও তার মিত্রদের অপতৎপরতা বা স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা প্রতিরোধ করতে যেকোনো বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে। তবে সেটির জন্য শত্রু ও মূল হুমকিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেছেন বাকেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যতদিন 'অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘন' করে যাবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনায় বসবে না ইরান।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছে ইরান। এছাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বাণিজ্যিক পথ 'হরমুজ প্রণালী' আবার উন্মুক্ত করে দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাকেই জানান, কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি অযাচিত হস্তক্ষেপ না করে, তবে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হতে পারে।



