গাজায় ত্রাণকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি শতাধিক সংস্থার আহ্বান

অক্সফাম ও মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্সসহ (এমএসএফ) মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তাদের বারবার বলা হচ্ছে, তারা ইসরাইলের কঠোর নিয়ম মেনে না চললে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ‘অনুমোদন পাবে না’।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্যসংকট আরো প্রকট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক সহায়তাকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১০০টিরও বেশি বৈশ্বিক সংস্থা। একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে এই আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

অক্সফাম ও মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্সসহ (এমএসএফ) মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তাদের বারবার বলা হচ্ছে, তারা ইসরাইলের কঠোর নিয়ম মেনে না চললে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ‘অনুমোদন পাবে না’।

যেসব সংস্থা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে ‘অবৈধ’ প্রমাণ করার চেষ্টা করে অথবা ফিলিস্তিনি কর্মীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়, সেই সংস্থাগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

ইসরাইল মানবিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছে, মার্চ মাসে চালু হওয়া নিয়মগুলো নিশ্চিত করে যে ত্রাণ ‘সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছায়, হামাসের কাছে নয়’।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে অধিকাংশ বড় আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এক ট্রাক জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামও গাজায় পাঠাতে পারেনি।

সংস্থাগুলো বলছে, নতুন নিয়মের কথা উল্লেখ করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ‘কয়েক ডজন বেসরকারি সংস্থার জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী আনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে’। শুধুমাত্র জুলাই মাসেই এ ধরনের ৬০টিরও বেশি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মানবিক সংস্থাগুলো সাহায্য পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গাজার হাসপাতালগুলোতে মৌলিক সরঞ্জামের অভাব দেখা দিয়েছে। শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা অনাহার ও প্রতিরোধযোগ্য অসুস্থতায় মারা যাচ্ছে।

আমেরিকান নিয়ার ইস্ট রিফিউজি এইডের (আনেরা) সিইও শেন ক্যারল বলেন, ‘আনেরার কাছে গাজায় প্রবেশের জন্য ৭০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪৪ টন চাল আছে, যা দিয়ে ৬০ লাখ খাবার তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু সেগুলো মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে আশদোদে আটকে দেয়া হয়েছে।’

মার্চ মাসে চালু হওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইসরাইলের অভ্যন্তরে সংস্থাগুলোকে কার্যক্রম চালাতে হলে নিবন্ধন বজায় রাখার জন্য নতুন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। এতে আবেদন বাতিল বা নিবন্ধন বাতিল করার শর্তাবলীও রয়েছে।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে, কোনো সংস্থা ইসরাইলের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে অস্বীকার করছে অথবা দেশের বিরুদ্ধে ‘প্রতিনিধিত্বমূলক প্রচারণা চালায়’, তাহলে তার নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

ইসরাইলের প্রবাসমন্ত্রী আমিচাই চিকলি বার্তাসংস্থা এএফপিকে দাবি করেন, ‘দুঃখজনকভাবে, অনেক সাহায্য সংস্থাই শত্রুতাপূর্ণ ও কখনো কখনো সহিংস কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে কাজ করে।’

অক্সফামের নীতিনির্ধারণী প্রধান বুশরা খালিদী বলেন, ইসরাইল গাজায় ২৫ লাখ ডলারেরও বেশি পণ্য প্রবেশে বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা হয়তো তাদের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদ জানানোর ক্ষমতার বিনিময়ে আসতে পারে।’