অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। কয়েকটি শহর ও গ্রামে অভিযান চালিয়ে শত শত ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতাও বেড়েছে। নাবলুসের কাছে একটি গ্রামে বন্দুকযুদ্ধে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে এই উত্তেজনা আরো তীব্র হয়েছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে দুই সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে ‘বড় আকারের সামরিক অভিযান’ শুরু করা হয়। রোববার এ অভিযান আরো জোরদার হয়। ইসরাইলি বাহিনী বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের আটক করে এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এদিকে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরাও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে। তারা বিভিন্ন ভবনে দেয়াললিখন করে, সম্পত্তির ক্ষতি করে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মাত্রা ও ব্যাপকতা উভয়ই বেড়েছে।
বসতি স্থাপনকারীরা দুটি মসজিদে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা শহরের সদ্য নির্মিত আল-রাহমা মসজিদও রয়েছে। কুসরা গ্রামের কাউন্সিলপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে ‘ইহুদি প্রতিশোধ’সহ বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান লিখেছে।
আলজাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে মসজিদটির ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের কারণে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নাবলুসের কাছে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। তবে এই অভিযানের পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্র : আল জাজিরা



