ফিলিস্তিনিদের অবমাননার মধ্য দিয়ে পালিত হলো জেরুসালেম দিবস

জেরুসালেম দিবসটি মূলত ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুসালেম দখলের স্মরণে উদযাপন করা হয়। ইসরাইল এ অঞ্চলকে তাদের রাজধানীর অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলের পতাকা হাতে ইহুদিরা
ইসরাইলের পতাকা হাতে ইহুদিরা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যেই জেরুসালেমে গতকাল সোমবার পালিত হয়েছে বিতর্কিত ‘জেরুসালেম দিবস’। এদিন পুরনো শহরের পথে পথে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরাইলিদের ভিড় জমে ওঠে। এ সময় তারা ইসরাইলের পতাকা হাতে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান আর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে অপমানসূচক ভাষা ব্যবহার করে।

সোমবার (২৬ মে) আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জেরুসালেম দিবসটি মূলত ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুসালেম দখলের স্মরণে উদযাপন করা হয়। ইসরাইল এ অঞ্চলকে তাদের রাজধানীর অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে।

গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই এ দিবস উপলক্ষে সোমবার অতি-ডানপন্থী ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। এটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।

তিনি বলেন, ‘আমি জেরুসালেম দিবসে টেম্পল মাউন্টে গিয়ে যুদ্ধে বিজয় ও গাজায় পণবন্দীদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রার্থনা করেছি।’ অতীতে তার এ স্থান পরিদর্শন নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এ স্থানটি জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক ও ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্র স্থান। এদিকে টেম্পল মাউন্ট ইহুদি ধর্মের পবিত্র স্থান, যদিও ইহুদিদের সেখানে প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ।

এ দিন পুরনো শহরের অলিগলিতে ইসরাইলি কিশোরদের ফিলিস্তিনি দোকানদার ও পথচারীদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়, অনেক জায়গায় তাদের মুখে ‌‌‘আরবদের মৃত্যু হোক’, ‘তোমাদের গ্রাম পুড়ে যাক’- এমন ঘৃণামূলক স্লোগান শোনা যায়। ভয়-ভীতির আশঙ্কায় অনেক ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ী আগেভাগেই দোকান বন্ধ করে দেন।

প্রতিবছরই হাজার হাজার ইসরাইলি জাতীয়তাবাদী, যাদের অনেকেই ইহুদি, ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাসহ জেরুসালেম ও এর সংযুক্ত পুরাতন শহরে ইসরাইলি পতাকা উড়িয়ে নাচ করে। এ মার্চটি পশ্চিম প্রাচীরে (ওয়েস্টার্ন ওয়াল) গিয়ে শেষ হয়, যা ইহুদিদের কাছে প্রার্থনার পবিত্রতম স্থান।

কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে পুরনো শহরে ফিলিস্তিনি দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়, যদিও এ বছর ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তারা বেশিভাগই হয়রানির ভয়ে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।

একইদিনে ইসরাইলি সরকার পূর্ব জেরুসালেমের সিলওয়ানে মন্ত্রিসভার বৈঠক করে, যা ফিলিস্তিনি এলাকা হলেও সেখানে রয়েছে ‘সিটি অব ডেভিড’ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। বৈঠকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, জেরুসালেম আমাদেরই থাকবে, অবিভাজ্য ও সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের অধীনে।

১৯৬৭ সালের পর থেকে পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইলি বসতি স্থাপন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা অবৈধ হলেও ইসরাইল সেসব উপেক্ষা করে চলেছে। জেরুসালেম দিবসটি তাই রূপ নিয়েছে দখলদারিত্ব, প্রতিরোধ ও পরিচয়ের টানাপড়েনের প্রতীকীতে।