যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপ আমাদের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ চালাচ্ছে : ইরান

চলতি বছরের জুন মাসে ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান |সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপ তার দেশের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের আগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

চলতি বছরের জুন মাসে ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

পেজেশকিয়ান এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অফিসিয়াল সাইটে বলেছেন, ‘আমার মতে, আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে আছি। তারা চায় না যে আমাদের দেশ তার পায়ে দাঁড়াক।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী শক্তির সাথে তাদের কাজ করছে। আমাদের সব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, সরঞ্জাম ও জনবলের দিক থেকে তারা (ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র) যখন আক্রমণ করেছিল তার চেয়েও এখন বেশি শক্তিশালী। যদি তারা আক্রমণ করতে চায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের আরো সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।’

এই যুদ্ধ অতীতের যুদ্ধগুলোর থেকে ভিন্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ইরাকের যুদ্ধের চেয়েও খারাপ। যদি কেউ এটা ভালোভাবে বোঝে, তাহলে এই যুদ্ধ সেই যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও কঠিন। তিনি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন। সে সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। যদিও তেহরান বারবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। জুন মাসে ইসরাইল ও ইরান ১২ দিনের যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকায় ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে এর সূত্রপাত ঘটে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে। যুদ্ধের শেষের দিকে ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ফলে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।

সূত্র : আল জাজিরা