বোমা হামলার ঝুঁকি নিয়েই ট্রাম্পের দূতের সাথে বৈঠক করেছিলেন আরাগচি

গত বছরের পরমাণু চুক্তি থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের এই গোপন যোগাযোগ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের যুদ্ধ পর্যন্তও সচল ছিল। তেহরান অবশ্য দাবি করেছে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছিল না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আব্বাস আরাগচি
আব্বাস আরাগচি |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের পর্দার আড়ালের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার খবর ফাঁস করেছে হিন্দুস্তান টাইমস। রোববার (১৯ জুলাই) দৈনিকটি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে মুখোমুখি বৈঠকের সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আরাগচি মার্কিন দূত উইটকফকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, “যেকোনো মুহূর্তে বোমা হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কখনো কি আলোচনায় বসেছেন?” গত বছরের পরমাণু চুক্তি থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের এই গোপন যোগাযোগ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের যুদ্ধ পর্যন্তও সচল ছিল। তেহরান অবশ্য দাবি করেছে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছিল না।

ইরানি গণমাধ্যম মেহর নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি স্পষ্ট জানান, ইরান কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলা নয় যে চাপ দিলেই ভেঙে পড়বে। গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যেভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে তা অসম্ভব।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার জুন মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি অকার্যকর। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর টানা আট রাত ধরে হামলা চালিয়েছে। জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে হামলা আরো বাড়বে। বিপরীতে তেহরানও পুরো অঞ্চলে পাল্টা আঘাতের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।