বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার মাঝেও গাজায় অভিযান বন্ধ রাখেনি ইসরাইলি বাহিনী। সোমবারও (৯ জুন) অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা।
মঙ্গলবার (১০ জুন) আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন দক্ষিণ রাফাহে অবস্থিত মার্কিন সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) সাহায্য কেন্দ্রের কাছাকাছি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলার জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। সেই থেকে চলমান এই অভিযানে সোমবারের হামলার পর গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯২৭ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৭ জনে পৌঁছেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলের ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে বন্দী করে নিয়ে যায়। এর পরপরই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
প্রায় ১৫ মাস টানা অভিযান চালানোর পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরাইল। কিন্তু সেই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৮ মার্চ থেকে পুনরায় দ্বিতীয় দফায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ।
এই দ্বিতীয় দফার অভিযানে গত আড়াই মাসে গাজায় আরো ৪ হাজার ৬০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার ৬৮৬ জন।
হামাসের হাতে বন্দী থাকা ২৫১ জন বন্দীর মধ্যে এখনো অন্তত ৩৫ জন জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল।
জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানালেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল ও অকার্যকর না করা এবং সব বন্দীকে মুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি গাজায় দুই মাসের নতুন যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। এই প্রস্তাবে নেতানিয়াহু সম্মতি দিলেও হামাস এখনো তা অনুমোদন করেনি।



