ইরানে ইসরাইলি হামলা, তেহরানসহ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইসরাইলের বিমানবাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের হামলার পর ইসরাইল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে
ইরানের হামলার পর ইসরাইল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে |সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইসরাইলের বিমানবাহিনী ইরানের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির তিনটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, ‘তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।’

এছাড়া, মধ্যাঞ্চলীয় শহর কারাজের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে, ইসরাইল পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেছে, ‘কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলি বিমানবাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ইরানি সন্ত্রাসী শাসকদের সাথে সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’

এদিকে ইরান তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তেহরানের দু’টি প্রধান বিমানবন্দরের একটি। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্ঘাতের কারণে এটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত এপ্রিল মাসে পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

তবে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে মধ্য ও পশ্চিম ইরানে ইসরাইলের হামলার সময় তেহরানের আবাসিক এলাকাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

তেহরান অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার (৮ জুন) ভোরে ইরানের রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত দু‘টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তবে এখনো হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি-না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইসরাইলে হামলার পর তেলের দাম বেড়েছে

এপ্রিল মাসে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর এই প্রথম ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এর জের ধরে সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময় তেলের দাম বেড়ে যায়। বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেল আড়াই শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছিল।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এই সঙ্ঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানে হামলা না করার অনুরোধ ট্রাম্পের

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ফোনালাপের আগে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান যে, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ না করার আহ্বান জানাবেন।

ট্রাম্প একই বার্তা ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজকেও দেন। টাইমস অফ ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বলেছেন যে, তিনি ‘আজ রাতে আর কোনো অতিরিক্ত হামলা দেখতে চান না’।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের হামলায় কেউ আহত হননি। প্রত্যেকেই তাদের মতো করে কাজ করেছেন। ইসরাইল তার হামলা চালিয়েছে, ইরানও তার হামলা চালিয়েছে। আমাদের আর কোনো হামলার প্রয়োজন নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখনই নেতানিয়াহুকে ফোন করব এবং তাকে পাল্টা হামলা না করতে বলব।’

এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, নেতানিয়াহুর ‘ইরানের সাথে একটি চুক্তি মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না’।

তেহরানে সরকারপন্থীদের বিক্ষোভ

লেবাননের বৈরুতে ইসরাইলি হামলার পর তেহরানের রাস্তায় সরকারপন্থীদের বিক্ষোভের কিছু খবর বিবিসির হাতে এসেছে।

বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ইরান ও হিজবুল্লাহর পতাকা বহন করছিলেন।

সূত্র: বিবিসি