ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩০ ফিলিস্তিনি

গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি সংস্থার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনী গুলিতে কমপক্ষে ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো ১২০ জন আহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজার মধ্যাঞ্চলে মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফের বিতরণ কেন্দ্রে ত্রাণ নিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
গাজার মধ্যাঞ্চলে মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফের বিতরণ কেন্দ্রে ত্রাণ নিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে গুলি চালিয়েছে ইসরাইল। এ সময় ত্রাণ নিতে যাওয়া ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

রোববার (১ জুন) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি সংস্থার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে। এতে রাফায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত এবং আরো ১২০ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়াও গাজার মধ্যাঞ্চলে নেটজারিম করিডোরের কাছে জিএইচএফের আরেকটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং আরো একজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহিম আবু সৌদ বলেন, রাফার কাছে বিতরণ কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হওয়া মানুষদের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। তিনি অনেককেই গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন।

মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ৪০ বছর বয়সী আবু সৌদকে উদ্ধৃত করে জানায়, গুলিতে অনেকেই নিহত হন। এর মধ্যে অনেক নারীও ছিলেন। ইসরাইলি বাহিনী তাদের থেকে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করছিল।

এদিকে আল জাজিরা বলছে, গাজার মানুষরা খাবারের অভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গাজার পরিবারগুলো শুধু তাদের সন্তানদের জন্য একবেলার খাবার নিশ্চিত করতে চায়। তাই বিতর্কিত জেনেও বাধ্য হয়ে ফিলিস্তিনিরা এ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে যাচ্ছে। কারণ তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

এমনকি জিএইচএফের সরবরাহ করা ত্রাণের পার্সেলগুলোও যথেষ্ট নয়। প্রতি পার্সেলে এক কেজি ময়দা, কয়েক ব্যাগ পাস্তা, কয়েক ক্যান ফাভা বিনের দেয়া হচ্ছে, যা পুষ্টিকর নয় এবং একটি পরিবারের জন্য তা যথেষ্টও নয়।