ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের আটকে রাখা অর্থ থেকে কোনো দেশ বা কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে সেই দেশের কোনো জাহাজকে আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দেয়া হবে না। মার্কিন প্ররোচনায় বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সুবিধা নেয়া গোষ্ঠীগুলোকে এই কৌশলগত জলপথ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ ও সঙ্কটকালীন সমন্বয়কারী প্রধান সংস্থা 'খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার যে ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের মুখে পড়ে যেসব বিদেশি পক্ষ বা ভারতসহ কোনো আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এই প্রস্তাবে সায় দেবে, তাদের জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি, ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে যারা ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ব্যবহার করবে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের কোনো জলযানকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে দেবে না।'
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তৈরি করা নিরাপত্তার অভাব ও বিশৃঙ্খলা কারণেই হয়ছে। তাছাড়া, যেসব জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো ইরানের দেয়া নিরাপদ নৌ চলাচলের নিয়ম ভঙ্গ করে দক্ষিণ দিকের অবৈধ ও বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের দোসর ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইরান। এরপর ওয়াশিংটনের সাথে সই হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় এসব কড়াকড়ি ধীরে ধীরে শিথিল করতে রাজি হয়েছিল তেহরান। ঐ চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল আগ্রাসন পুরোপুরি নস্যাৎ করা এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। তবে চুক্তি অনুযায়ী নৌপথের পুরো নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখার শর্ত পালনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ায় আবারো আগের মতো কঠোর তল্লাশি ও পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করতে সামরিক কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হচ্ছে, ইরান জানিয়েছে।



