পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর উসকানিহীন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সাহসী ও অনড় অবস্থানের পরই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।
ইতোমধ্যেই ইরানের ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন এবং এর চূড়ান্ত বয়ান চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, এই ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়ায় তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ধৈর্য, অধ্যবসায় ও গঠনমূলক ভূমিকারও বিশেষ মূল্যায়ন করেন।
পুরো প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য শাহবাজ শরিফ কাতার, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
এই চুক্তিটি মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর চালানো উসকানিহীন আগ্রাসন ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে অন্তত ১০০টি ধাপে চূড়ান্ত ও প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালায়।
ইরানের এই অনমনীয় ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিরোধের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আগামী ৬০ দিন ধরে আলোচনা চলবে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়েও তেহরান পুরোপুরি অবিচল থাকবে। যেকোনো ধরনের চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
সূত্র : প্রেসটিভি



