নাবাতিয়া বাদে লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ ইসরাইলের

ইসরাইলি অবস্থান অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ যদি তাদের লক্ষ্য করে হামলা না চালায়, তাহলে লেবাননের অন্যান্য এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হবে না—এমনটাই যুদ্ধবিরতির একটি বাস্তবায়ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নাবাতিয়া এলাকার নিকটবর্তী একটি কৌশলগত পাহাড়কে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযান বাদে লেবাননে অন্যসব হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে অধিকৃত লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান বজায় রাখতে, তবে বিস্তৃত গোলাবর্ষণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে নাবাতিয়ার নিকটবর্তী আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় চলমান সংঘর্ষ এই নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

ইসরাইলি অবস্থান অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ যদি তাদের লক্ষ্য করে হামলা না চালায়, তাহলে লেবাননের অন্যান্য এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হবে না—এমনটাই যুদ্ধবিরতির একটি বাস্তবায়ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, পরিস্থিতির এই উত্তেজনা সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য আসন্ন আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ইস্যুতে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যাক।

অন্যদিকে, ইসরাইল এই সমঝোতাকে রাজনৈতিকভাবে জটিল ও বিতর্কিত হিসেবে দেখছে এবং লেবাননের অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।

সব মিলিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এ সিদ্ধান্তগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীকে একদিকে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট রক্ষা—এই দুই চ্যালেঞ্জের ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে ইসরাইলের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ এই সমীকরণ দ্বারাই নির্ধারিত হতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা