ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় ঢল নেমেছে হাজার হাজার মানুষের।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো ইরানির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো বিদেশী শোকাহতরা এতে অংশ নিয়েছেন।
শহীদ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, বসনিয়া ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ তেহরানে এসেছেন। খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে দেশ-কালের সীমানা ভুলে সবাই এক কাতারে শামিল হয়েছেন।
এক নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিনি কেবল ইরানের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন গোটা মুসলিম বিশ্বের নেতা।’
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণসহ বিশ্বের সব নিপীড়িত জাতি ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন মহান নেতাকে শেষ বিদায় জানাতেই তিনি এখানে এসেছেন বলে জানান।
একই ধরনের আবেগ প্রকাশ করে বসনিয়া থেকে আসা এক নারী বলেন, ‘বসনিয়ার মানুষ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে। আজ আমরা আমাদের বাবাকে হারালাম, এখন আমাদের সব আশা-ভরসা ইরানের শক্তি ও বিজয়ের ওপরই নির্ভর করছে।’
এদিকে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া এক ইরানি নাগরিক বলেন, মানুষের এই উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে আমাদের জাতীয় ঐক্য কতটা সুদৃঢ়।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের শত্রুদের জেনে রাখা উচিত যে, আমাদের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’
অনুষ্ঠানের অন্যতম ও তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য ছিল ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি চারদিকে লাল পতাকার বিশাল সমাহার। শিয়া মুসলিম ঐতিহ্যে এই লাল পতাকা মূলত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ভাবে ঝরানো রক্তের প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানের মরহুম নেতার হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের দাবির প্রতীক হিসেবে বহু শোকাহতরা এই পতাকাটি বহন করছিলেন।
সূত্র: ওয়ানা



