যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তির বিকল্প পথ খুঁজছে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইসরাইল দোহা থেকে তাদের প্রতিনিধি দলকে ডেকে পাঠিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আরো কিছু বিষয়ে আলোচনার জন্য তাদেরকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইটকফ
মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইটকফ |আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তির বিকল্প পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ। বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবে হামাসের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।

উইটকফ বলেন, ওয়াশিংটন এখন ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তির জন্য বিকল্প পথ খুঁজছে। হামাস যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, তারা যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়।

এদিকে, ইসরাইল দোহা থেকে তাদের প্রতিনিধি দলকে ডেকে পাঠিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আরো কিছু বিষয়ে আলোচনার জন্য তাদেরকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

উইটকফ অভিযোগ করেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে অনেক চেষ্টা করছে। কিন্তু হামাসের তাতে ইতিবাচক সাড়া বুঝা যাচ্ছে না। হামাস সমন্বয় করেও চলছে না।

হামাসের এই আচরণে দুঃখ প্রকাশ করে মার্কিন দূত বলেন, তার দেশ এই যুদ্ধ বন্ধ করতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং গাজাবাসীর জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

উইটকফ গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা করতে ইতালি গেছেন। মার্কিন ও ইসরাইলি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কাতার ও মিসরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তারা এমন একটি কাঠামোতে পৌঁছাতে চান, যেন যুদ্ধ বন্ধ হয় এবং গাজায় খাদ্য সহায়তা প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছার বাস্তব অগ্রগতির দিকেও ইঙ্গিত করেন।

জেরুসালেম পোস্ট এক ইসরাইলি কর্মকর্তার সূত্রে জানিয়েছে, হামাস যদি নমনীয়তা প্রদর্শন না করে, তাহলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, কাতার থেকে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলকে আরো কিছু বিষয়ের আলোচনার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাবার মতো নমনীয়তা প্রদর্শন না করা হলে তারা আর কাতার ফিরে যাবে না।

কাতার থেকে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাই এবং উইটকফের আলোচনায় সাফল্যের প্রশংসা করি।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরাইল প্রতিনিধি দলকে ডেকে পাঠিয়েছে এমন কিছু বিষয়ের আলোচনার জন্য, যেগুলো দূরে থেকে আলোচনা করা সম্ভব নয়। এমনিভাবে যুদ্ধবিরতি বিষয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়াও ছিল ইতিবাচক। ফলে আশা করা যাচ্ছে যে অচিরেই উভয় পক্ষের বিভাজন দূর হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দূটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ‘ইসরাইল তাদের প্রতিনিধি দলকে ডেকে পাঠানো আলোচনার অচলাবস্থাকে বুঝায় না।’ অবশ্য আজ সকালে ইসরাইল জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনায় হামাস যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তারা সেটি পেয়েছে। হামাসের প্রতিক্রিয়া তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এখনো গাজায় যুদ্ধবিরতিতে একমত হওয়া সম্ভব। তবে ইসরাইলের একগুঁয়েমির কারণে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, হামাস তাদের প্রতিক্রিয়ায় একটি ধারা অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে। যেন ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে উপনীত না হওয়া গেলে ওই ধারাটি ইসরাইলকে নতুনভাবে যুদ্ধ শুরু করতে বাধা প্রদান করে।

ইসরাইলের স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এক ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তার সূত্রে জানিয়েছে, ইসরাইল নতুন চুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারে। তবে ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে না। কারণ, উভয় পক্ষের চাহিদাতে এখনো অনেক দূরত্ব রয়েছে। যার মধ্যে কোন স্থান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে, এই জাতীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে, গাজায় বন্দী ইসরাইলিদের পরিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা উভয় পক্ষের মাঝে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেন। যেন একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়।

তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাগিদ দিয়েছেন, তিনি যেন সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা ও চাপ অব্যাহত রাখেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, হামাসের সাম্প্রতিক যে অবস্থান, সেটি ইতিবাচক ও নমনীয়। গাজায় ক্রয়বর্ধমান দুর্ভোগ ও দুর্ভিক্ষ শেষ করার তাগিদে হামাস এই অবস্থান গ্রহণ করেছে।

ফিলিস্তিনি আরো দুটি সূত্র ফ্রান্সের গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, হামাস যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাতে কয়েকটি সংশোধনী রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যেতে চায়।

একটি সূত্র সংশোধনী সম্পর্কে কিছুটা ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, সংশোধনীতে গাজায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশ, পুরোপুরিভাবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

এমনিভাবে জীবিত ইসরাইলি বন্দীদের বিনিময়ে আরো অধিক সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি চেয়েছে হামাস।

সূত্র : আল জাজিরা