ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সব বাহিনী সৌদি জোটের অধীনে

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল ঘোষণা দিয়েছে যে দক্ষিণ ইয়েমেনের সব সামরিক বাহিনী এখন থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে পরিচালিত হবে, ফলে ইউএই-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

দক্ষিণ ইয়েমানের সব সামরিক বাহিনী এখন থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হবে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি শনিবার ঘোষণা এই ঘোষণা দিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যর্থ অভিযানের পর রাশাদ আল-আলিমির এই ঘোষণাটি এলো।

টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে আল-আলিমি বলেন, ‘আমি সৌদি জোটের কমান্ডের অধীনে একটি সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, এই কমিটি দক্ষিণ ইয়েমেনের সব সামরিক বাহিনী ও গঠনকে ‘প্রশিক্ষণ, সজ্জিতকরণ ও নির্দেশনা’ দেয়ার দায়িত্বে থাকবে।

এই ঘোষণা আসে এমন সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী সম্প্রতি ইউএই সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর কাছ থেকে দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকা পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে এসটিসি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ দখল করেছিল।

তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব ও ইউএই দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সমর্থিত হাউছিদের বিরুদ্ধে গঠিত জোটের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

হাউছিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে এবং এখনো তারা দেশটির একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তবে বর্তমানে রিয়াদ ও আবুধাবি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের ভেতর ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে, যা দক্ষিণ ইয়েমানের বড় অংশে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে।

এদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের নেতার দেশত্যাগের খবর পাওয়া গেছে।

রিয়াদে পাঠানো একটি এসটিসি প্রতিনিধিদল শুক্রবার সংগঠনটির বিলুপ্তির ঘোষণা দিলেও, অন্যান্য স্থানে থাকা এসটিসি সদস্যরা দাবি করেছেন যে এটি চাপের মুখে করা হয়েছে।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার এডেন শহরে হাজারো মানুষ এসটিসির পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেয়, যদিও সৌদি-সমর্থিত কর্মকর্তারা এ সব সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বাধীন থাকা সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের পতাকা বহন করেন এবং এ সময় অনেকেই এসটিসি প্রেসিডেন্ট আইদারুস আল-জুবাইদির ছবি প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভকারী ইয়াকুব আল-সাফিয়ানি বলেন, ‘আজ দক্ষিণাঞ্চলীয় সব প্রদেশ থেকে মানুষ রাজধানী এডেনে জড়ো হয়েছে। আমরা আবারো বলতে চাই, আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চাই।’

এই বিক্ষোভে সৌদি আরব-বিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।

ইয়েমানের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনকে রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করলেও শহরটি এখনো এসটিসির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

সূত্র : বাসস