তেহরানে শোকানুষ্ঠান চলাকালেই ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকি

এই পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বয়ে আনবে না।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ |সংগৃহীত

তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শোক অনুষ্ঠান চলার মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের চ্যানেল থার্টিনের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ স্বীকার করেছেন যে তার দেশই খামেনিকে হত্যা করেছে। তার ভাষায়, খামেনি ইসরাইলকে ‘ধ্বংস করার পরিকল্পনার’ নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

একইসাথে কাটজ আবারো হুমকি দিয়ে বলেছেন, যে কোনো ইরানি নেতা যদি এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করেন তাকেও খতম করা হবে।’

তেহরানে চলমান শোকযাত্রার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যমে এই মন্তব্য করেন কাটজ।

তিনি আরো বলেন, ইসরাইল যেকোনো সময় এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে কাটজ বলেছিলেন যে, খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা ‘মৃত্যুর তালিকায়’ রয়েছেন, যা তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তোলে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ নিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্প তেল আবিবে তার পোষা প্রাণীদের মুখ বন্ধ রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছেন।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের জনগণ এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে।’

এদিকে, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের গভীর বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা ‘কঠিন কিন্তু সম্ভব’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান সফরে আসা হামাসের নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ দারউইশের সাথে এক বৈঠকে গালিবাফ এসব কথা বলেন।

বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের কোনো শান্তি নেই এবং আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেব না।’

খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী ইরান মুসলিম দেশগুলো এবং ‘প্রতিরোধের অক্ষ’কে সমর্থন দিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয় মিসাইল দিয়ে এবং যদি রাজনৈতিক চাপের প্রয়োজন হয় তবে আলোচনার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হবে।’

তবে ‘শুধু আলোচনার খাতিরে আলোচনা’ এড়িয়ে চলতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। গালিবাফ আরো বলেন, ‘আমরা মার্কিন পক্ষকে বলেছি যে আঞ্চলিক দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোতে ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি সমঝোতা স্মারকের অংশ হতে হবে এবং এটি চুক্তির মূল পাঠে যুক্ত করা হয়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বয়ে আনবে না।’