সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকায় শনিবার (২৫ জুলাই) দু’টি বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত এবং আরো ৩০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
দামেস্ক-দেইর এজোর সড়কে দু’টি বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা জানানো হয়নি।
বার্তাসংস্থা সানা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সাথে একটি বেসামরিক বাসের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দুর্ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেখা গেছে। এতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে ও মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা।
তিনি সানাকে বলেন, ‘এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
রায়েদ আল সালেহ আরো বলেন, ‘এ দুর্ঘটনা দেশটির সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো মোকাবেলার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বছরের পর বছর অবহেলা আর বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে এসব অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস মহাসড়কে উল্টে গেলে পাঁচজন প্রাণ হারান এবং আরো কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। এদের বেশিভাগই ছিলেন লেবাননের নাগরিক।
দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও অবহেলার কারণে সিরিয়ার অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং দেশটির অনেক সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দামেস্কের সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ পূর্বাঞ্চলের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বেশিভাগ সড়কের অবস্থা খারাপ এবং গত ১৫ বছরে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।’
গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাসের সাথে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। তবে শনিবারের দুর্ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
২০২০ সালে দামেস্ক ও হোমস প্রদেশের মধ্যবর্তী সড়কে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার দু’টি বাসকে ধাক্কা দিলে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হন।
সূত্র: বাসস



