দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করছে ইরান, উদ্বেগে ইসরাইল

ইরান খুব দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি সামলে ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার আবারো পূর্ণ করে ফেলেছে। তাদের শিল্প উৎপাদন ও পুনর্নির্মাণ ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানি ক্ষেপণান্ত্র
ইরানি ক্ষেপণান্ত্র |সংগৃহীত

কয়েক মাস ধরে একের পর এক বিমান হামলার পরও নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো দারুণ দক্ষতায় পুনর্নির্মাণ করছে ইরান। ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সেতু থেকে শুরু করে কারখানা ও বন্দর—সবই দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনছে ইরান। ইসরাইল ও পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং স্যাটেলাইট ছবির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, ইরানের এমন চমকপ্রদ পুনর্নির্মাণ ক্ষমতা ও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো দেখে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা শুক্রবার (২৪ জুলাই) জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, গত মার্চে পশ্চিম ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেলের মুখ ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে নতুন রাস্তা ও প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু মাত্র কয়েক দিনেই মেরামত করেছে ইরানি কর্মীরা। এছাড়া জুলাইয়ের শুরুর ছবিতে কাশপিয়ান সাগরের বন্দার আনজালি বন্দরে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের সাথে যুক্ত শিপইয়ার্ড পুনর্নির্মাণের ছবি উঠে এসেছে।

ইসরাইলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক কমান্ডার রান কোচাভ স্বীকার করেছেন, ইরান খুব দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি সামলে ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার আবারো পূর্ণ করে ফেলেছে। তাদের শিল্প উৎপাদন ও পুনর্নির্মাণ ক্ষমতা অত্যন্ত প্রভাবশালী। মার্কিন বিশ্লেষক তাল ইনবার জানান, 'ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে বলে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সেনাবাহিনী 'একেবারে তছনছ' এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যন্ত্র 'ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া'র দাবি করলেও বাস্তবে হতাশা প্রকাশ করছেন ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা। এক ইসরাইলি কর্মকর্তা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, 'ইরান সব কিছু আবারো নতুন করে তৈরি করছে, আমি সত্যিই খুব চিন্তিত।' অন্য এক কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ বিমান হামলায় ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির কেবল প্রবেশপথ ধসেছিল, ভেতরের মূল অংশ অক্ষত থাকায় তারা সহজেই অস্ত্র উদ্ধার করে সুরঙ্গ পথ খুলে ফেলেছে।

দেজফুল ও কেরমানশাহর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং তেহরানের কাছে রাজা শিমি ইন্ডাস্ট্রিজেও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন জানান, জটিল যন্ত্রাংশ তৈরিতে কিছুটা সময় লাগলেও ইরানের ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে যে বিপুল রসদ জমানো আছে, তা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা শত শত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করে ফেলতে পারবে।