ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা প্রমাণ করেছে যে নিরাপত্তা ছাড়া কোনো দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা টেকসই হতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব শুধু ওই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার সময় পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, হামলায় ইরানের নারী, শিশু ও অন্যান্য বেসামরিক মানুষকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করার নীতি সমুন্নত রাখতে ব্রিকসকে আরো বড় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ব্রিকসের ভূমিকা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান পেজেশকিয়ান। তার মতে, এতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় ব্রিকস সদস্যদের সক্ষমতা বাড়বে।
পেজেশকিয়ান বলেন, আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই ব্যবস্থায় কোনো একটি ক্ষমতাকেন্দ্রের অন্যদের ‘ভাগ্য নির্ধারণ’ করার অধিকার থাকা উচিত নয়।
দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
বর্তমানে ব্রিকসের ১১ সদস্য হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। শনিবার জোটটি ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করে। এতে উদীয়মান বাজার, উন্নয়নশীল দেশ ও ব্রিকসের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরো গভীর করার অঙ্গীকার করা হয়।
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। এ সংঘাতে ইরানের সামরিক, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলার পাশাপাশি ইরানের পাল্টা হামলাও হয়েছে।


