যুদ্ধ, সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে চাপে থাকা ইরানের অর্থনীতিকে সামাল দিতে বিশেষ ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে তেহরান। ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থায়ন ও মুদ্রাব্যবস্থার সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের উপ-অর্থমন্ত্রী মোর্তেজা জামানিয়ান বলেছেন, চলমান সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া মুদ্রাসংক্রান্ত সমস্যাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সংকট দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আল জাজিরা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার পর এখনকার যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে তেহরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে দেশটির ওপর নতুন করে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে একদিকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ—দুই চাপের মাঝখানে পড়েছে ইরান। ইরান-চীন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাজিদরেজা হারিরি বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগেও দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল অর্থনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘যুদ্ধ শুরুর আগেও সরকার, জনগণ কিংবা নেতৃত্ব—কেউই অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না।’
হারিরির ভাষায়, আগে থেকেই সংকটে থাকা সেই অর্থনীতিকেই এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে যুদ্ধ, সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক অবরোধের। তাই এসব পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক। আলাদা আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের মুদ্রা সংকটের ‘উল্লেখযোগ্য একটি অংশের’ পেছনে রয়েছে অর্থনীতির ‘ঐতিহাসিক সমস্যা’। যুদ্ধ সেই পুরোনো সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
অর্থাৎ, ইরানের সামনে এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াই নয়। দেশের বাজার, মুদ্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ভেতরেও চলছে আরেক যুদ্ধ—যার ধাক্কা সামলাতে তেহরান গড়েছে এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্কফোর্স।



