ইসরাইলি কারাগারে ৪৭৬৯ ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী বন্দী

ইসরাইলি কারাগারে চার হাজার ৭৬৯ ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী বন্দী রয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ফিলিস্তিনের বন্দীবিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুম্মুস এ তথ্য জানিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি কারাগার
ইসরাইলি কারাগার |সংগৃহীত

ইসরাইলি কারাগারে চার হাজার ৭৬৯ ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী বন্দী রয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ফিলিস্তিনের বন্দীবিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুম্মুস এ তথ্য জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রতি বছর যুবকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা তুলে ধরতে ১২ আগস্ট এ দিবসটি পালন করা হয়।

আবু আল-হুম্মুস বলেন, ‘ইসরাইলি কারাগারে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ বন্দীর সংখ্যা চার হাজার ৭১৩ জন এবং নারী বন্দীর সংখ্যা ৫৬ জন।’

তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি কারাগারে নিহত ৯১ ফিলিস্তিনি বন্দীর মধ্যে ৪১ জনই ছিলেন তরুণ।

আবু আল-হুম্মুস বলেন, ‘তাদের মধ্যে ৪০ জনের লাশ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের আরো কয়েক ডজন বন্দীর লাশও সেখানে আছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় মার্কিন-সমর্থিত গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরাইল ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়েছে।

আবু আল-হুম্মুস বলেন, ‘ফিলিস্তিনি যুবকরা ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের মেরুদণ্ড এবং দখলদারিত্ব, অবিচার ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির প্রকৃত যোদ্ধা।’

তিনি আরো বলেন, ‘যতক্ষণ না তাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির আশা পূরণ হচ্ছে এবং তারা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে একটি স্বাভাবিক জীবন লাভ করছে, ততক্ষণ তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।’

ফিলিস্তিনি যুবকদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে যুববিষয়ক সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরাইলি কারাগারে নয় হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছে, যাদের মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৩৭০ জনেরও বেশি শিশু। নির্যাতন, অনাহার এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার ফলে সেখানে কয়েক ডজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।

১৯৪৮ সালে সশস্ত্র জায়নবাদী গোষ্ঠী গণহত্যা চালিয়ে এবং সাত লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরবর্তীতে তারা বাকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডও দখল করে নেয় এবং জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব অনুযায়ী সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি