ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে একক কোনো দেশের বিরুদ্ধে বেআইনি 'অর্থনৈতিক যুদ্ধ' চালিয়ে যাওয়ার চেয়েও বড় অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক বার্তায় এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সার্বভৌমত্বের সাধারণ নিয়মকে লঙ্ঘন করছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, মুখপাত্র বাকেই তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ মূলত জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য চাপিয়ে দেয়ার একটি অপচেষ্টা। তিনি বলেন, 'বিশ্বের কোনো সরকারেরই অধিকার নেই অন্যান্য স্বাধীন দেশের ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে অন্য কোনো দেশের সাথে বৈধ বাণিজ্য থেকে জোরপূর্বক বিরত রাখা। কারণ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনা তাদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার এখতিয়ারভুক্ত।'
মার্কিন এসব গৌণ বা দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এটি জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রসমূহের সমতার নীতির পরিপন্থী এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের নীতি জোরপূর্বক বদলে দেয়ার জন্য অর্থনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শন করা একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। বিশেষ করে যখন এসব নিষেধাজ্ঞার সাথে নৌ অবরোধের মতো আগ্রাসী পদক্ষেপ যুক্ত হয়, তখন অন্য দেশের স্বাধীনতা কেবল কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের মর্জির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বাকেই বলেন, মার্কিন এই অর্থনৈতিক চাপ ও আধিপত্য মেনে নিলে কোনো রাষ্ট্রই সুরক্ষিত থাকবে না। বরং এর মাধ্যমে নিজের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে বিদেশি শক্তির কর্তৃত্বকে স্বীকার করে নেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের নীতিমালার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং বিশ্ব আবারো পূর্ণাঙ্গ উপনিবেশবাদের দিকে ধাবিত হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীন প্রসঙ্গ
এদিকে ইরান সংকটের তীব্রতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষক ট্যাং আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি চীনের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুলে যাবেন না।
ট্যাং বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল ভাবনা ও অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা। ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে শেষ পর্যন্ত চীনই প্রধান বিষয় হিসেবে বহাল থাকবে।'



