হাঁটু গেড়ে বসার দিন শেষ : গালিবাফ

জোরজুলুমের দিন শেষ। এসব করে কোনো লাভ হবে না। ইরান দমে যাওয়ার পাত্র নয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তেহরানের ইনকিলাব চত্বরের একটি দেয়ালচিত্রের লেখা , 'তোমরা  ইরানের কাছে আবারও নতি স্বীকার করবে।'
তেহরানের ইনকিলাব চত্বরের একটি দেয়ালচিত্রের লেখা , 'তোমরা ইরানের কাছে আবারও নতি স্বীকার করবে।' |সংগৃহীত

তেহরান আর ওয়াশিংটনের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক চরমভাবে লঙ্ঘনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সেই ‘মাতব্বরি আর জোরজুলুমের দিন’ এখন শেষ। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি বুধবার (৭ জুলাই) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অধিকার খর্ব করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলের অবিরাম সামরিক আগ্রাসনের মতো গুরুতর চুক্তিভঙ্গের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে এক বার্তায় মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এসব সীমালঙ্ঘন ইরানের অবিচল সংকল্পকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানি স্পিকার বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকের বড় ধরনের লঙ্ঘনগুলো হলো— হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিন্যাসকে অমান্য করা, তেলের ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা চাপানো, দক্ষিণ ইরানে হামলা চালানো এবং লেবাননে জায়নবাদী ইসরাইলের ক্রমাগত আগ্রাসন।' ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, 'জোরজুলুমের দিন শেষ। এসব করে কোনো লাভ হবে না। ইরান দমে যাওয়ার পাত্র নয়।'

গত ১৭ জুলাই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে বৈরিতা অবসান এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল সেই ১৪ দফার চুক্তিতে। যেখানে অন্তত ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের টোলমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াত পুরোপুরি স্বাভাবিক করার শর্ত ছিল ইরানের জন্য।

তবে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের এই কড়া মন্তব্যটি এমন সময়ে এলো, যার ঠিক আগেই দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি এবং কেশম দ্বীপের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমও এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, তারা ৭ জুলাই ইরানের অভ্যন্তরে আশিটিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে নতুন করে আক্রমণ চালিয়েছে। মূলত মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবেই শত্রুভাবাপন্ন দেশ ও তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার পরও ইরানি বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ নৌ-অবরোধ জারি রাখায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করে তেহরান। ইসলামিক রিপাবলিক ইরান এই প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌমত্বের বৈধ অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ইরান এটি পরিচালনা করবে।

সূত্র: আল জাজিরা