মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত ইরানের একটি আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আল জাজিরা বুধবার (২৯ জুলাই) জানিয়েছে, ফক্স নিউজের প্রতিনিধি ট্রেই ইংস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর ইরানের এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সরাসরি সম্প্রচার না হওয়া ঐ সাক্ষাতকারের বরাতে জানা যায়, জর্দানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে রাতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে সেগুলোকে মাঝআকাশেই ধ্বংস করে দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমরা তাদের ওপর চড়াও হব এবং অত্যন্ত শক্ত আঘাত হানব। তারা এবার বড় ধরনের শিক্ষা পেতে যাচ্ছে।'
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুহূর্তে প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং প্রতিক্রিয়ার সময় বা 'রিয়্যাকশন টাইম' কতটা কম ছিল, তা-ও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। রাডার স্ক্রিনে আঘাতের সংকেত ভেসে ওঠার পর পাল্টা আঘাত হেনে আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য জর্দানে থাকা মার্কিন সেনাদের হাতে সময় ছিল সাকুল্যে মাত্র কয়েক মিনিট। আধুনিক রাডার ও ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরাকে ইরান-সমর্থিত বেশ কিছু আধাসামরিক গোষ্ঠীর আস্তানায় যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বিমানবাহিনী। ট্রাম্প জানান, ইরাক সরকারের সাথে পূর্ণ সমন্বয় রেখেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ওইসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বিশ্বের জন্য 'ক্যান্সার' বলে আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের প্রক্সি বা ছায়া গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তার প্রশাসন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক শক্তি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে আবারো নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যার ওপর কড়া নজর রাখছে জাতিসঙ্ঘ সহ আন্তর্জাতিক মহল।



