চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড আজ রোববার (৫ এপ্রিল) কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘মামলাটি পর্যালোচনা এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক চূড়ান্ত রায় নিশ্চিত হওয়ার পর মোহাম্মদ-আমিন বিগলারি ও শাহিন ভাহেদপারস্তকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।’
এতে আরো বলা হয়, এই দুই ব্যক্তি গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চরমে পৌঁছায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে হত্যা ও ভাঙচুরের মতো ‘বিদেশী উস্কানিতে সৃষ্ট দাঙ্গায়’ পরিণত হয়।
ইরান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভ বা বিরোধী দলগুলোর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের, নিষিদ্ধঘোষিত পিপলস মুজাহিদিনের (এমইকে) সদস্যদেরসহ, একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো কার্যকর করা হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
শনিবার ইরান এমইকে-এর দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এর আগে, সপ্তাহের শুরুতে এই গোষ্ঠীর আরো চারজন সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালীন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার দায়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে, গত মাসে আরো তিনজনের একই ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
তেহরান বলেছে, এই অস্থিরতার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এই সহিংসতার জন্য তারা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’কে দায়ী করেছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা সাত হাজার জনেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
সংস্থাটি আরো বলেছে যে, মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
সূত্র: বাসস



