আন্তর্জাতিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। একই সাথে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।
আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিরসন করা জরুরি। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে শুধু অঞ্চল নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওয়াডেফুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়াই বর্তমান সঙ্কটনিরসনের সবচেয়ে কার্যকর পথ। উভয় পক্ষকে উত্তেজনা বৃদ্ধি না করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। সেখানে মাইন পেতে রাখা হলে তা বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে জার্মানি প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব। এ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে জার্মানি মিত্র দেশগুলোর সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্ঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
জার্মানির এ আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা


