ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির ডেপুটি হেড আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বলেছেন, তাদের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন মজুদ আছে, তা দিয়ে অনায়াসেই বছরের পর বছর যুদ্ধ চালিয়ে নেয়া সম্ভব।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিনি এ কথা বলেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অব্যাহত উসকানি আর মার্কিন হুমকির মুখে তেহরানের এই বার্তা কেবল একটি ঘোষণা নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার এক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বলেন, ইরান এখনো তাদের আসল সামর্থ্য তুলে ধরেনি। নিজেদের হাতে থাকা সেরা মারণাস্ত্রগুলো আড়াল করে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যা বিপক্ষ শিবিরের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ হতে পারে।
ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনী মিলে যে নৌ-অবরোধের নাটক সাজিয়েছে, তাকে নেহাৎ তামাশা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। বোরুজেরদির মতে, এই অবরোধ মোটেও কার্যকর নয়। এখনো হরমুজ প্রণালীর কাছে ১২০টির মতো জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। মার্কিন রণতরীগুলোর চোখের সামনে দিয়েই ইরানি জাহাজগুলো নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের থামানোর সাহস কেউ দেখাচ্ছে না।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালীও এখন হরমুজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে যেকোনো গোলযোগ বিশ্ব বাণিজ্যের সমুদ্রপথকে ওলটপালট করে দিতে পারে। ইরান বলেছে যে, তারা তাদের সার্বভৌম অধিকার থেকে এক চুলও নড়বে না। আলোচনার টেবিলে নিজেদের হিসেব বুঝে নিতে তারা বদ্ধপরিকর।
এদিকে, তেহরানের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে হুংকার ছেড়েছে আইআরজিসি নেভি বা রেভোল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীও। আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক সহকারী হামাদ আকবরজাদে মিনাব শহরের এক জনসভায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের বড় বড় রণতরীগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তাদের হাতে এখন এমন সব অত্যাধুনিক টার্গেটিং সিস্টেম আর যুদ্ধকৌশল আছে, যা দিয়ে সাগরের বুকে শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেয়া সম্ভব।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তান কয়েক দফায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও কিছুই হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের দেয়া শান্তি প্রস্তাব মানতে রাজি। তেহরান চায় আগে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্য শুরু হোক, কিন্তু পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে পরে কথা বলবে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর



